• চুল পড়া বন্ধে থানকুনি পাতা
একুশে নিউজ,18 August 2017 4:54 pm
Logo

প্রচ্ছদ »  বিশ্ব বন্ধু দিবস আজ: জানেন কি, বন্ধু দিবসের উৎপত্তির ইতিহাস…?

একুশে নিউজ| আপডেট: 7:38 August 7, 2016

বিশ্ব বন্ধু দিবস আজ: জানেন কি, বন্ধু দিবসের উৎপত্তির ইতিহাস…?

বিশ্ব বন্ধু দিবস আজ: জানেন কি, বন্ধু দিবসের উৎপত্তির ইতিহাস…?

রবিউল ইসলাম, ফিচার এডিটর-

সেই ছোটবেলা থেকেই আমরা বইপত্রে পড়ে আসছি – মানুষ সামাজিক জীব! এর কারণটি হলো মানুষ একা বসবাস করতে পারে না। মানুষ নিয়েই সমাজ গঠিত আর সমাজেই বসবাস করে মানুষ। সমাজ ও মানুষ একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তাই সমাজে বাস করতে হলে, প্রতিদিন কারো না কারো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। কাউকে না কাউকে আপন করতে হয়। একে অন্যকে আপন করে নেবার নামই বন্ধুত্ব। তবে বন্ধুত্ব এমন একটি বন্ধন, এতে থাকে স্বার্থহীন ভালোবাসা।

পৃথিবীর অন্যতম নিষ্পাপ সম্পর্কের একটি হল ‘বন্ধুত্ব’। একে অন্যের সুখে-খুশিতে লাফিয়ে ওঠার; একে অন্যের দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর। মন খুলে কথা বলা, হেসে গড়াগড়ি খাওয়া আর চূড়ান্ত পাগলামি করার একমাত্র আধার এ ‘বন্ধুত্ব’। বন্ধুত্ব কোনো বয়স মেনে হয় না, ছোট-বড় সবাই বন্ধু হতে পারে। তবে হ্যাঁ, বয়সের ব্যবধানের কারণে ছোটদের প্রতি স্নেহ আর বড়দের প্রতি সম্মানটা থাকা অত্যাবশ্যকীয়। বন্ধুত্বের মধ্যে যে জিনিসটা থাকা চাই তা হল ‘ভালোবাসা’। আত্মার সঙ্গে আত্মার টান থাকতেই হবে।

আজকাল আধুনিকতার স্পর্শে এ ‘বন্ধু’ শব্দটির বদলে মানুষ ইংরেজি ‘ফ্রেন্ড’ শব্দটিতেই বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তা সত্ত্বেও বাংলা ‘বন্ধু’ শব্দটির মাঝে যে আবেদন আছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ছোটকালে বাংলা ব্যাকরণে আমরা সবাই শিখেছি- বন্ধু (পুংলিঙ্গ) ও বান্ধবী (স্ত্রীলিঙ্গ)। তবে নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই ‘বন্ধু’ শব্দটি প্রয়োগযোগ্য।

বন্ধু হচ্ছে চাঁদের মতো। চাঁদনী রাতে যেখানেই যাবো, সঙ্গে যাবে চাঁদ। যতদূরেই হোক, দূর আকাশ থেকে জানান দেবে ‘আমি আছি’। জীবনে বন্ধু হচ্ছে তৃষ্ণায় এক আজলা শীতল জলের মতো। সৃষ্টির শুরুতে বন্ধুত্ব ছিল, এখনও আছে, থাকবে অনন্তকাল। আত্মার আত্মীয় বন্ধুকে ধন্যব‍াদান্তে একঝুড়ি ভালোবাসা জানাতে দীর্ঘদিন ধরে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব বন্ধু দিবস।

আজ বিশ্ব বন্ধু দিবস। প্রতি বছর আগস্ট মাসের প্রথম রবিবার সারা বিশ্বে একযোগে বন্ধু দিবস পালন করা হয়। অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও এ দিনেই বন্ধু দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এ দিবসটির প্রচলন বিগত শতাব্দীর শেষাংশে হলেও এখন তা সারা দেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে গেছে।

তবে কীভাবে এই দিন বন্ধু দিবস পালনের জন্য স্বীকৃত তা অনেকের অজানা। আসুন জেনে নেই …

১৯৩৫ সালে মার্কিন কংগ্রেস বন্ধুদের সম্মানে একটি দিন উৎসর্গ করার কথা মাথায় রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে আগষ্টের প্রথম রোববারকে জাতীয় বন্ধু দিবস বলে ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে দিনটিকে সরকারি ছ‍ুটির দিন হিসেবেও নির্ধারণ করা হয়। তখন থেকে প্রতিবছর দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে বিশেষ করে প্যারাগুয়েতে ঘটা করে বন্ধু দিবস পালিত হতো। ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও অন্যান্য দেশে এ দিনটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। বন্ধু দিবস ঘোষণার উৎপত্তি বা কারণ ঠিক কী তা সঠিকভাবে বলা মুশকিল।

তবে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা অর্থাৎ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, বিশৃঙ্খলা ও হিংস্রতা মানুষের মধ্যে অনেকটাই বন্ধ‍ুর অভাব তৈরি করেছিলো বলে অনেকের অভিমত। ফলে রাষ্ট্রীয়ভাবে বন্ধু দিবস নির্ধারিত হয়েছিলো বলে অনেকে মনে করেন।

আবার কথিত রয়েছে, ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তি নিহত হন। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। বন্ধু বিয়োগের ঘটনায় আঘাত সহ্য করতে না পেরে সেই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। বন্ধুর জন্য বন্ধুর এ অ‍াত্মত্যাগের ঘটনায় সেসময় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক উত্তেজনা। সেবছরই মার্কিন কংগ্রেস বন্ধুত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে আগস্টের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

অন্য এক সূত্র অনুযায়ী, বন্ধু দিবসের শুরু হয়েছিলো আরও আগে। ১৯১৯ সালে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে কার্ড, ফুল, উপহার বিনিময় করতো। ১৯১০ সালে জয়েস হলের প্রতিষ্ঠিত হলমার্ক কার্ড বন্ধু দিবস পালনের রীতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছিলো।

সম্প্রতি বন্ধু দিবসের দিন তারিখ বদলানো হয়েছে। ১৯৫৮ সালে অ‍ান্তর্জাতিক নাগরিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড বিশ্বে শান্তির উদ্দেশ্যে প্যারাগুয়েতে ৩০ জুলাইকে বিশ্ব বন্ধু দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেয়।

১৯৫৮ সালের ২০ জুলাই ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেডের প্রতিষ্ঠাতা ড. ৠামন আর্তেমিও ব্রেঞ্চো বন্ধুদের সঙ্গে প্যারাগুয়ের পুয়ের্তো পিনাসকোতে এক নৈশভোজে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সে রাতেই ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডসিপ ক্রুসেড প্রতিষ্ঠা পায়।

এই প্রতিষ্ঠানটি ৩০ জুলাই বিশ্বব্যাপী বন্ধু দিবস পালনের জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠায়। প্রায় পাঁচ যুগ পর ২০১১ সালের ২৭ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৩০ জুলাইকে বিশ্ব বন্ধু দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

তবে এখনও বাংলাদেশ-ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগষ্টের প্রথম রোববারই বন্ধু দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আবার কোনো কোনো দেশে ০৮ এপ্রিল বন্ধু দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

বর্তমানে প্রায় সারাবিশ্ব বন্ধু দিবস পালন করে। এই দিন বিভিন্নভাবে উৎযাপন করা হয়। এই দিনে বন্ধুরা একে-অপরকে বিভিন্ন ধরণের কার্ড, চকলেট, ফুল ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দিয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরণের প্রোগ্রাম করা হয়। বিভিন্ন স্থানে কন্সার্ট এর ব্যবস্থা করা হয়।

১৯৯৭ সালে বন্ধু দিবসের অ্যাম্বেসেডর হিসেবে বিখ্যাত কার্টুন চরিত্র ‘পু’-কে বিশ্ববাসীর সামনে উন্মুক্ত করা হয়।

শুধু আগস্টের প্রথম রবিবার নয়, সারা বছর জুড়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরণের বন্ধু দিবস রয়েছে। যেমন- আগস্টের তৃতীয় রবিবার “নারী বন্ধু দিবস”, মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে “বাল্য বন্ধু দিবস” ও “নতুন বন্ধু সপ্তাহ” রয়েছে। এছাড়া সম্পূর্ণ ফেব্রুয়ারি মাস আন্তর্জাতিক বন্ধু মাস হিসেবে বিভিন্ন দেশে পালন করা হয়।

আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে বন্ধু দিবস পালন করা হলেও, কিছু কিছু দেশে এই দিনটি অনেক বৃহৎ আকারে পালন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বন্ধু দিবসের আগে বিভিন্ন মার্কেট ও শপিং মলে কার্ডের দোকানে বেশ ক্রেতা দেখা যায়। কার্ড, চকলেট ও কেকের জন্য সেসকল স্থানে ঈদের আমেজ সৃষ্টি হয়।

বন্ধু দিবসে গোলাপ ফুল দিতে দেখা যায়। তবে তা লাল গোলাপ নয়। বন্ধুত্বের চিহ্ন বহন করে হলুদ ও গোলাপি রংয়ের গোলাপ। তাই, এই দিনে সকলের এই ফুল বেশি পছন্দের। এছাড়াও এইদিনে ফ্রেন্ডশিপ বেন্ড উপহার হিসেবে দেয়া হয়।

জীবনে ভালো বন্ধু পাওয়া সত্যিই অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। এ পৃথিবীতে সব সম্পর্কই যত্নের ওপর টিকে থাকে। ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পাওয়া যেমন কঠিন, এর চেয়েও বেশি কঠিন এ সম্পর্ককে রক্ষা করা।

পরিশেষে এটাই বলা, দিন বা তারিখ যাই হোক, প্রতিটি দিনই বন্ধুত্বের বাঁধন থাকুক অটুট। প্রতিটি দিনই হোক বন্ধু দিবস।

ভালো থাকুক বন্ধুত্ব।

শুভেচ্ছা।