• চুল পড়া বন্ধে থানকুনি পাতা
একুশে নিউজ,18 August 2017 4:53 pm
Logo

প্রচ্ছদ »  মুজিব শুধু একটি নাম, একজন মানুষ নয়, শেখ মুজিব একটি স্বপ্ন, একটি সংগ্রাম, একটি ইতিহাস

একুশে নিউজ| আপডেট: 6:58 August 15, 2016

মুজিব শুধু একটি নাম, একজন মানুষ নয়, শেখ মুজিব একটি স্বপ্ন, একটি সংগ্রাম, একটি ইতিহাস

মুজিব শুধু একটি নাম, একজন মানুষ নয়, শেখ মুজিব একটি স্বপ্ন, একটি সংগ্রাম, একটি ইতিহাস

রবিউল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, ভূঞাপুর নিউজ২৪- বাঙালি, বাংলাদেশ আর মুক্তিযুদ্ধের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যার নামটি জড়িত তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

মহাপুরুষ প্রতিদিন জন্ম নেননা। তারা আসেন যুগে যুগে। একজন মহামানবের জন্য একটি জাতিকে অপেক্ষা করতে হয় যুগের পর যুগ, বছরের পর বছর। বঙ্গবন্ধুর জন্য বাঙালিকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল দু’শ বছরেরও বেশি। পরাধীন ঘুমন্ত জাতিকে তিনিই প্রথম স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখান।

‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’, তাঁর এই বজ্র নির্ঘোষ কন্ঠ সেদিন বাঙালি জাতিকে একটি বিন্দুতে এনে মিলিত করে। স্বাধীনতার অদম্য ইচ্ছায় পতঙ্গের মত জনতা সেদিন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বঙ্গবন্ধুর এই আহবানে সাড়া দিয়ে। ফলশ্রুতিতে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। যুদ্ধে বিজয়ী বাঙালি অর্জন করে একটি স্বাধীন ভূ-খ- এবং গর্বিত জাতীয় পতাকা। আমাদের গর্বের প্রতীক লাল সবুজের পবিত্র পতাকা।

আসলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর শুধু একটি নাম নয়, শুধু একজন মানুষ নয়, শেখ মুজিব একটি স্বপ্ন, একটি সংগ্রাম, একটি ইতিহাস। যে মহানায়কের জন্ম না হলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের এ স্বাধীন সার্বভৌম দেশের অভ্যুদয় কখনই হত না এবং বাঙালিরা একটি স্বাধীন জাতি হিসাবে বিশ্ব সভ্যতায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারতো না।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় প্রতিটি দেশেই কেউ একজন তাদের মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছেন, আর একজন এসে সেই স্বপ্ন দেখা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, আবার আরেকজন এসে মুক্তি সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সবশেষে হয়তো অন্য আরেকজন এসে স্বাধীনতার চুড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করেছেন। অর্থাৎ কোন নেতাই তার জীবদ্দশায় নিজ জাতির মুক্তি সংগ্রামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একক ভাবে নেতৃত্ব দিয়ে চুড়ান্ত বিজয় দেখে যেতে পারেন নি।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুই একমাত্র নেতা যিনি একটি শোষিত, নিপীড়িত জাতিকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়ে, ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তি সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে চুড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে পুরো বাঙালী জাতিকে শোষনের শৃংখল থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতার স্বপ্নকে সত্যিতে বাস্তবায়ন করেছেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে সত্যিই বিরল এক দৃষ্টান্ত।

যিনি আমাদেরকে মুক্তির স্বাদ দিলেন, যে মানুষটি তার বিশাল হৃদয় দিয়ে বাংলার দূঃখী মানুষকে ভালবেসে ছিলেন, যে হৃদয়ে তিনি ধারন করেছিলেন স্বাধীন বাংলার মানচিত্র, যে হৃদয়ে তিনি লালন করেছিলেন শোষনমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা, তার প্রতিদান দিতে হলো ৭৫’এর ১৫ই আগস্ট কালোরাত্রিতে।

১৫ আগস্ট। যেদিন ইতিহাস থমকে দাঁড়ায়। নদী হারায় স্রোত। বনের পাখিরা নিস্তব্ধ হয়ে আরো নির্জনে চলে যায়। এদিন ভোরের সূর্য আরো রক্তিম হয়ে ওঠে। রাখালের বাঁশির সুর লহরি হয়ে ওঠে আরো করুণ।

নানা ঘটনা প্রবাহ আর ব্যথাতুর স্মৃতিতে বাঙালি জীবনে গোটা আগস্ট মাস ভারি হলেও ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড বিশ্বমানবতাকে স্তম্ভিত করে দেয়। ওই দিন বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা নির্মমভাবে হত্যা করে।

বিশ্ব ইতিহাসের নির্মম এইদিনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আরো প্রাণ হারিয়েছিলেন তার সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিল।

ঘাতকদের বুলেটে ওই দিন আরো প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু ও আরিফ রিন্টু খান।

দেশে না থাকায় সেদিন প্রাণে রক্ষা পান তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা। স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে সে সময় জার্মানির কার্লসরুইয়ে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে।

তারপরের ইতিহাস আমাদের সবার জানা। ৪১বছর আগের ভয়াল এক রাতের শোকাবহ স্মৃতি স্মরণ করছে আজ বাংলাদেশ। জনক হারানোর দিনকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণে চলছে বিভিন্ন কর্মসূচি।

রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের জন্য সরকার সোমবার ছুটি ঘোষণা করেছে। শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে এবারের ১৫ আগস্ট।

সোমবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে তোলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করার পাশাপাশি তোলা হয় শোকের কালো পতাকা।

সকাল সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

স্বশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সশস্ত্র সালাম জানায়। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। পরে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এরপর দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পৌনে ৭টার দিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীকন্যা সায়মা হোসেন পুতুলসহ বঙ্গবন্ধুর স্বজনরা জাদুঘরের ভেতরে যান এবং সেখানে কিছুক্ষণ সময় অবস্থান করেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে লাইনে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়কের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান হাজারো মানুষ। ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনা মনে করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জাতির জনককে স্মরণ করেছেন শ্রদ্ধাভরে।

এরপর শেখ হাসিনা টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দুপুরে টুঙ্গীপাড়ায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন এবং সারাদেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা হচ্ছে।